সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আসলে কি সব আছে ? যা কিছু আছে তাই’বা কয়টা শহরে আছে !
থাকলেও আমার, না থাকলেও আমার। আমার ভৈরব, আমাদের ভৈরব।

  • কিশোরগঞ্জ জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম কি?

    জনগণকে সহজে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়,কিশোরগঞ্জ নিচতলায় ১ নং কক্ষে জেলা ই-সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা ই-সেবা কেন্দ্র মাধ্যমে দ্রুত জনসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এখানে ইন্টারনেট সুবিধাসহ কম্পিউটার ও টেলিফোন সংযোজন করা হয়েছে । জেলা ই-সেবা কেন্দ্র হতে অফিস চলাকালে একজন কর্মকর্তার তত্ত্ববাবধানে সার্বক্ষণিকভাবে অফিস সহকারীগণ দাপ্তরিক, নাগরিক ও সহিমুড়ি নকলের আবেদন গ্রহণ করছেন এবং নকলের আবেদন বিতরণ করছেন। আমাদের জেলা ই-সেবা কেন্দ্র ভিজিট করার সময় এখানে রক্ষিত রেজিস্টারে আপনার নাম ঠিকানাও রেখে যেতে পারেন যাতে পরবর্তীতে আপনার সাথে যোগাযোগ করে চাহিত তথ্যাদি আপনাকে দেয়া যায়।

    জেলা ই-সেবা কেন্দ্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা -
    মো: শামসুল আলম, (সহকারী কমিশনার)
    মুঠোফোন- ০১৭১১০১২৩৫৭।

    ফ্রণ্ট ডেস্কের ফোন নম্বরঃ ০৯৪১-৬১৬০৩।

  • আমি কি কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে পারি?

    ভাটি অঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জ। মসনদ-ই-আলা বীর সেনানী ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত, নরসুন্দা নদী বিধৌত, হাওড় অধ্যুষিত এবং গ্রাম বাংলার শাশ্বত রুপ-বৈচিত্র ও সোনালী ঐতিহ্যের ধারক কিশোরগঞ্জের রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পুরাণ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। আবহমান কাল ধরে গ্রাম বাংলার পল্লী মায়ের পীযুষধারা স্নাত এবং স্নেহসিক্ত মাতৃক্রোড়ে লালিত এ সমৃদ্ধ জনপদ অনেকাংশেই বিস্মৃতির পথে। লোকচক্ষুর অন্তরালে লুকায়িত সমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জের পর্যটন ও ঐতিহ্য। এ জেলার পর্যটন ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত কিছু
    ঐতিহাসিক ও দর্শণীয় স্থান হলঃ

    ১.ঐতিহাসিক জঙ্গলবাড়ী,ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী।
    ২.ঐতিহাসিক এগারসিন্ধুর দূর্গ,ঈশা-খাঁর ঐতিহাসিক দূর্গ।
    ৩.কবি চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির,বঙ্গের আদি মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতিবিজড়িত মন্দির।
    ৪.দিলীর আখড়া, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে প্রতিষ্ঠিত দিল্লীর আখড়া।
    ৫.শোলাকিয়া ঈদগাহ,এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ।
    ৬.পাগলা মসজিদ, আধূনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা।
    ৭.শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু।
    ৮.সুকুমার রায়ের বাড়ী, বিখ্যাত ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পৈত্রিক বাড়ী।
    ৯.জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ,দেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বপ্রথম বেরসকারী মেডিকেল কলেজ।
    ১০.দূর্জয় স্মৃতি ভাস্কর্য, জাতীয় উন্নতি,অগ্রগতি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রতীয় ভাস্কর্য ।

  • ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ্ -এর নামকরন হল কিভাবে?

    কিশোরগজ্ঞের ঐতিহাসিক ঈদগাহের সৃষ্টির ইতিহাস সন্পর্কে অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে । সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জানা যায় ১৮২৮ সালে এ মাঠের গোড়াপওন হয় । বিখ্যাত এই ঈদগাহ ময়দানের অবস্হান কিশোরগজ্ঞ জেলা শহরের পূর্ব অংশে । প্রায় সাত একর আয়তনের ঈদগাহটি বর্তমান মৃতপ্রায় নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় , যে এলাকাটিকে মানুষ শোলাকিয়া নামেই চেনে । জানা ১৮২৮ সালে প্রথম এই ঈদঁগাহে ঈদেঁ জামাত হয় । ওই বছর স্হানীয় (সাহেব বাড়ি ) বর্তমান শোলাকিয়া সাহেব বাড়ির উর্দ্ধতন পুরুষ সৈয়দ আহমদ (রঃ) তার তালুক সন্পত্তিতে তারই ইমামতিতে ঈদেঁর জামাত অনুষ্ঠিত হয় । এ মাঠের নামকরণের বিষয়ে জনশ্রুতি হচ্ছে যে , বহুকাল আগে একবার এ মাঠে ঈদেঁর জামাতে জামাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাত্‍ সোয়া লাখ । এই সোয়া লাখ থেকেই উচ্চারণ বিবর্তনে বর্তমান শোলাকিয়ার নামকরণ হয়েছে । অপর একটি ধারণা হচ্ছে , মোগল আমলে এখানে পরগণার রাজস্ব আদায়ের একটি অফিস ছিল । সেই অফিসের অধীন পরগণার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা । জনশ্রুতি হচ্ছে , এটাও "শোলাকিয়া" নামকরণের উত্‍স হতে পারে ।

    ঐতিহ্যবাহী ঈদঁগাহটি ১৮২৮ খ্রিঃ থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে উপমহাদেশের সবচেয়ে বৃহত্‍ ঈদ জামাতের মাঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ।প্রতি ঈদের জামাতে এ মাঠে তিন লাখের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করেন । মাঠের ভেতরে ২৬৫ টি কাতার রয়েছে ।কিন্ত স্হান সংকুলান না হওয়ায় মাঠ ছাড়িয়ে মুসল্লিগন ঈদগাহ সড়ক ,পার্শ্ববর্তী কুমুদীনি স্কুল মাঠ ,নরসুন্দা নদী অপর পারে কিশোরগঞ্ছ-করিমগঞ্ছ সড়কের ওপর , বাড়ির উঠান ,বাসার ছাদ এবং নিকঠবর্তী এলাকায় নামাজে অংশ নেন । এ মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী দফায় দফায় শটগানের গুলি ছোড়া হয় আকাশে । জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি , ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছোড়ার মাধ্যমে সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেওয়া হয় । নামাজ শেষে দেশ , জাতি ও মুসলিম উন্মাহর জন্য মঙ্গল কামনা করে মুনাজাত পরিচালিত হয় । লাখো লাখো আবাল বৃদ্বা বনিতার "আমিন আমিন" রবে মুখরিত হয়ে ওঠে ঈদগাহ ময়দান ।

  • আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবা পাবেন কিভাবে?

    আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কিশোরগঞ্জে প্রত্যেক আবেদনকারী শশরীরে অত্র অফিসে হাজির হয়ে পাসপোর্ট আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে এবং আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন-জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ (সত্যায়িত),নাগরিকত্ব সনদ(সত্যায়িত),জমা দেওয়ার পর উক্ত আবেদন পত্র প্রথমে প্রাথমিক তালিকভুক্তকরণ (Pre-Enrolment) তারপর সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড্ পদ্ধতিতে আংগুলিছাঁপ,ছবি তোলা,স্বাক্ষর নেয়া অর্থ্যাৎ Bio-Enrolment করার পর আবেদনকারীকে একটি ডেলিভারী স্লিপ দেয়া হয় যাতে পাসপোর্ট ডেলিভারীর একটি সম্ভাব্য তারিখ দেয়া থাকে।পরবর্তীতে পুলিশ প্রতিবেদন (প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে)প্রাপ্তি সাপেক্ষে পাসপোর্ট প্রিন্টের জন্য প্রধান কার্যালয়,ঢাকায় কম্পিউটারের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন (Final Approval)দেয়া হয় পাসপোর্ট প্রিন্ট এর জন্য।পরবর্তীতে পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে অফিসে আসার পর তা কম্পিউটারের মাধ্যমে গ্রহণ (Received)করা হয়।গ্রহনের সাথে সাথে আবেদনকারীর আবেদনপত্রে উল্লেখিত মোবাইলে পাসপোর্ট গ্রহণ সংক্রান্ত একটি মেসেজ যায়।পরবর্তীতে নির্দ্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে রিড (Read)করে ডেলিভারী কাউন্টার থেকে তা আবেদনকারীদের মধ্যে তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হয়।

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সেবা পাবেন কিভাবে?

    ক)সাংস্কৃতিক কার্যক্রম:

    আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ইমামদের দায়িত্ব সচেনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইমামদেরকে ৪৫দিন ব্যাপি মৎসচাষ, বনায়ন, গবাদি পশুপালন, আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ, প্রাথমিক চিকিৎসা, গণশিক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতি ব্যাচে ১৫জন ইমাম বাছাই করে ঢাকায় প্রেরণ করাহয়। বছরে ৩/৪বার এই কার্যক্রম বাসত্মবায়ন করা হয়। প্রতি বছর জেলার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের মধ্যে থেকে শ্রেষ্ঠ ইমাম ও শ্রেষ্ঠ খামারী বাছাই করে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রেরণ করা হয়।

    গ) মানব সম্পদ প্রশিক্ষণ:

    জেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমে মুসলিম বিত্তবানদের নিকট থেকে যাকাতের অর্থ উত্তোলন ও যাকাতের অর্থে দারিদ্র বিমোচন, দুঃস্থ, বিধবা, নওমুসলিম, বৃক্ষাবৃত্তি নিরোধ, শিক্ষাবৃত্তি, সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে গরীবদের পুনর্বাসন করা হয়।

    ঙ) সরকারী ব্যবস্থাপনায় হজ্জ্ব কার্যক্রম :

    বিক্রয় শাখায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত কুরআন, হাদিস, তাফসীর, বিশ্বকোষ, মনীষীদের জীবনী, শিশুতোষ গ্রন্থাদি, উপন্যাস, ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি বই আকর্ষণীয় কমিশনে বিক্রয় করা হয়।

    ছ) চাঁদ দেখা কর্মসূচি:

    প্রতি আরবী মাসে ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় জেলা চাঁদ দেখা কমিটির সভায় জেলায় চাঁদ দেখা সংক্রামত্ম তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে অবহিত করা হয়।

    জ) ইসলামিক মিশন :

    প্রত্যন্ত অঞ্চলে সর্বসাধারণের মাঝে ইসলাম প্রচার-প্রসার, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি বাসত্মবায়ন, দারিদ্র বিমোচন, সেলাই প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা ও চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে জেলার ইটনা উপজেলার বর্শিকুড়াতে১টি ইসলামিক মিশন পরিচালিত হচ্ছে ।

  • জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সেবা পাবেন কিভাবে?

    বিদেশে গমনেচ্ছুদের অনলাইন নাম নিবন্ধন ও মৃতের লাশ বাংলাদেশে আনয়ন,আর্থিক অনুদান ও ক্ষতিপুরন আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহন ।স্ব -শরীরে অফিসে এসে অথবা ফোন করে ।

  • জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়,কিশোরগঞ্জ থেকে সেবা পাওয়া যায় কিভাবে?


    সেবা এবং ধাপ সমূহ (বিস্তারিত) :
    কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা সহ মোট ১৩টি উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সদর উপজেলায় কোন জনবল কাঠামো না থাকায় জেলা ‍কার্যালয় হতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ১৩টি উপজেলায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সময় জেলায় নারী উন্নয়ন মূলক সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    ১। মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম :
    কিশোরগঞ্জসহ সকল উপজেলার জন্য ১৩-১৪ অর্থ বছরে কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলায় ৮,১৭,১০৩/৫৬ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায় যা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বের বিতরণকৃত ৮৯,৯৯,৩৬৫/- টাকা আদায় কার্যক্রম চলমান।

    ২। দরিদ্র মা’র মাতৃত্বকাল ভাতা :
    ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে জেলার ১৩টি উপজেলায় ১০৮টি ইউনিয়নে ৫২৯২ জন ভাতাভোগীর ব্যাংক হিসাব খোলা হচ্ছে এবং জুলাই/১৪ হতে ডিসেম্বর/১৪ মাস পর্যন্ত বিতরনের জন্য ১,৫৮,৭৬০০০/-টাকার বরাদ্দ পাওয়া যা বিতরণ প্রক্রিয়াধীণ।

    ৩। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল কর্মসূচী :
    ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার জন্য ১০৫০ জন ভাতাভোগীর ব্যাংক হিসাব খোলা হচ্ছে এবং জুলাই/১৪ হতে ডিসেম্বর/১৪ মাস পর্যন্ত বিতরণের জন্য ৩১,৫০০০০/-টাকার বরাদ্দ পাওয়া যায় যা বিতরণ বিতরণ প্রক্রিয়াধীন।

    ৪। ভিজিডি সংক্রান্ত :
    এ কার্যক্রম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৪-২০১৫ চক্রে জেলার ১৩টি উপজেলায় ১০৮টি ইউনিয়নে ১১,২৫৩ জন ভাতাভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত খাদ্য শস্য বিতরণ করা হচ্ছে।

    ৫। স্বেচ্ছোসেবী মহিলা প্রতিষ্ঠান :
    ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে অনুদানের জন্য স্বেচ্ছাসেবী মহিলা প্রতিষ্ঠানের আবেদনপত্র যাচাই বাছাই করে সাধারণ অনুদানের জন্য ১০১ (এবশত একটি) টি এবং বিশেষ অনুদানের জন্য ৫(পাঁচ) টি আবেদনপত্র সদর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রদত্ত সেবা সমূহ কি কি?

    ১। ক্ষুদ্র এবং মাঝারি কৃষকগণ কৃষক সমবায় সমিতি এবং মহিলারা মহিলা সমবায় সমিতির সদস্য হতে পারেন।

    ২। ক্ষুদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষী এবং বিত্তহীন পুরষ ও মহিলারা যথাক্রমে পুরষ ও মহিলা দলের সদস্য হতে পারেন।

    ৩।গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাসকরেন, কায়িক পরিশ্রমের উপর নির্ভরশীল, স্থায়ী আয়ের অন্যকোনউৎস্যনেই, অন্য কোন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত নয় বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট ঋণী নয় এমন ১৮ থেকে ৫৫ বছরের যেকোন পুরষ ও মহিলা বিত্তহীন পুরষ/মহিলা দলের সদস্য হতে পারেন।

    ৪। সদস্য পদ গ্রহণের পর দলে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন সাপেক্ষে ১ জন সদস্য ৩ মাসের মধ্যে ঋণ পেতে পারেন।

    ৫। কোন রকম জামানত ছাড়া ২০০৩ এরক্ষুদ্রঋণনীতিমালারআলোকেঋণপ্রদানকরাহয়।

    ৬। উপকারভোগীরাসামাজিকসচেতনতাওদক্ষতাবৃদ্ধিকল্পেআয়বর্ধককর্মকান্ডেরউপরপ্রশিক্ষণপেয়েথাকেন।

    ৭। আয়বৃদ্ধিমূলককর্মকান্ডবাসত্মবায়নেরজন্যউপকারভোগীসদস্য৫,০০০/= টাকাথেকে২৫,০০০/= টাকাপর্যন্তঋণপেয়েথাকেন।

    ৮। ঋণেরযাবতীয়কাগজপত্রউপজেলাবিআরডিবিদপ্তরথেকেসরবরাহকরাহয়েথাকে।

    ৯। উপকারভোগীসদস্যগণক্ষুদ্রক্ষুদ্রসঞ্চয়জমারমাধ্যমেনিজসবপুঁজিগঠনকরেথাকেন।

    ১০ পরিবারের২জনসদস্য(১জনপুরষ১জনমহিলা) পৃথকপৃথকভাবেপুরষওমহিলাদলেরসদস্যহতেপারেন।

    বিআরডিবির সেবা সম্পর্কে বিসত্মারিত জানার জন্য উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কিংবা নতুন ভোটার নিবন্ধিত হয় কিভাবে?

    ১। নতুন ভোটার নিবন্ধনঃ
    জেলা নির্বাচন অফিস বা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে ১টি ২নং ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবেপূরণ করে সাথে -

    Ø জন্ম নিবন্ধন সনদ (১৭ ডিজিটের)

    Ø সংশ্লিষ্ট এলাকারনাগরিকত্ব সনদ

    Ø পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি

    Ø শিক্ষাগতযোগ্যতার সনদসহ

    সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিয়ে ছবি তোলার তারিখ জেনে নিতে হবে।

    ২। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনঃ
    জেলা বা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে ১টি সংশোধনি ফর্ম (১৪নং) সংগ্রহ করে যথাযথভাবেপূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র/দলিলাদি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।

    ৩। ভোটার স্থানান্তরঃ
    জেলা/উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে ১টি ১৩নং ফর্ম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে (জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকত্ব সনদসহ) সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।

  • বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে সাধারন জনগন কিভাবে উপকৃত হতে পারে?

    লট প্রপ্তি =>

    # প্লট প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত আবেদন পত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহা আবেদন করতে হয়।

    # আবেদন পত্র যাচাই বাছাই এর পর জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়।

    # জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় অনুমোদনের পর শিল্পনগরী অফিস থেকে বরাদ্দপত্র জারি করা হয়।

    # বরাদ্দপত্র জারির পর ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে প্লট বুঝে নিতে হয়।

    # লে আউট প্ল্যান অফিসে জমা দিয়ে পাশ করিয়ৈ কারখানার কাজ শুরু করতে হয়।


    নিবন্ধন প্রদান =>

    # নির্থারিক মূল্য দিয়ে অফিস থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ।

    # প্রযোজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র অফিসে জমাদান।

    # আবেদনপত্রের তথ্য যাচা্ই বাছাই এর পর নিবন্ধন প্রদানের যোগ্য হলে নিবন্ধন ফি জমাদান।

    # নিবন্ধন প্রদান।


    ঋন সহায়তা=>

    # ঋণ আবেদন ফরম সযগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র জমাদান।

    # আবেদনকারীর পছন্দীয় ব্যাংকের সাথে পরামর্শ করে ঋন আবেদন প্রেরন।

    # ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ঋন মঞ্জুরীর ব্যবস্থা করন।


    প্রশিক্ষণ =>

    # সার্কুলার/বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন।

    # আবেদনপত্র যাচাই বাছাই এর পর প্রশিক্ষণেল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

    # প্রশিক্ষন প্রদান।

    এখানে উল্লেখ্য যে কোন কোন প্রশিক্ষন স্থানীয়ভাবে সম্ভব না হলে বিসিকের নিজস্ব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়ে থাকে

  • কৃষি উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (কিশোরগঞ্জ) ভূমিকা কি?

    বিএডিসি’র কার্যক্রম দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের দোড়গোড়ায় সেচ সুবিধা পৌছানোর জন্য সরকার বিএডিসি’র মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী(ক্ষুদ্রসেচ/নির্মাণ/সওকা) বিএডিসি উপজেলা ইউনিট দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাগণ কৃষকদের নিম্নবর্ণিত সেবা সমূহের উপর আবেদন গ্রহণ করেন এবং তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে উপজেলা সেচ কমিটি কর্তৃক অনুমোদন করে বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) জোন ও নির্বাহী প্রকৌশলী(ক্ষুদ্রসেচ) রিজিয়ন দপ্তরে তা প্রেরন করেনঃ
    ০১. ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়নের লক্ষে ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-পরিস্থ পানি সম্পদ উন্নয়নের নিমিত্ত সেচ অবকাঠামো নির্মাণ, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-পরিস্থ সেচ নালা নির্মাণের মাধ্যমে সরেজমিনে দক্ষ সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা ।

    ০২. দুর্গম পাহাড়ী, চর ও উপকূলীয় এলাকাসহ বিশেষ সেচ ব্যবস্থা প্রয়োগসহ সমগ্র দেশে সেচ এলাকা বৃদ্ধির জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মূল্যায়ণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ।

    ০৩. ছোট নদী, খাল, নালা ইত্যাদি সংস্কার, খনন/পুন:খনন এবং সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করে পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধিসহ শক্তিচালিত ও ভাসমান পাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে ভূ-পরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।

    ০৪. আধুনিক লাগসই কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপন, ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সেচ প্রকৌশল প্রযুক্তির প্রয়োগ, সেচ সম্প্রসারণ, সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি ও ফলন পার্থক্য (Yield Gap) কমানোর উপর কৃষক প্রশিক্ষণ।

    ০৫. সেচযন্ত্র, সেচ এলাকাসহ ভূ-গর্ভস্থ/ভূ-পরিস্থ পানি সম্পদ জরীপ, আধুনিক উন্নত পদ্ধতিতে পানির সরত পরিবীক্ষণ, ৬ টি আঞ্চলিক ও ২৩০ টি মিনি ল্যাবের মাধ্যমে পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে বিভিনড়ব প্রকাশনার মাধ্যমে তথ্য সেবা প্রদান।

    ০৬. আর্সেনিকসহ অন্যান্য উপাদান যা সেচজনিত পরিবেশ দূষণ সমস্যার কারণ তা অনুসন্ধান ও সমাধানের দিক নির্দেশণা প্রদান।

    ০৭. খরা, দুর্যোগ, ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ও সিডরসহ বিভিনড়ব আপৎকালীন সময়ে জরুরী ভিত্তিতে সেচ ও সেচ সংজান্ত কারিগরি সেবা প্রদান;

    ০৮. অকেজো / অচল গভীর নলকূপ পুনর্বাসন, নতুন নলকূপ স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফোর্স মোড নলকূপ স্থাপন করে ক্ষেত্রায়নের মাধ্যমে সেচ সেবা প্রদান ও সেচ এলাকা সম্প্রসারণ করণ।

    ০৯. ভূ-গর্ভস্থ স্থিতিশীল পানির সরত অপরিবর্তিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

    ১০. পাহাড়ী ছড়া/ছোট নদীতে রাবার ড্যাম স্থাপনের মাধ্যমে সেচ সুবিধা প্রদান।

    ১১. রিনিউএবল এনার্জি (সোলার প্যানেল) চালিত সেচ যন্ত্র সংগ্রহ/সরবরাহ ও ক্ষেত্রায়ন।

    ১২. ভূ-গর্ভস্থ স্থিতিশীল পানির সরত অপরিবর্তিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

  • জেলা বাজার কর্মকর্তার কার্যালয়,কিশোরগঞ্জ কি এবং কেন ?

    ১। কৃষি পণ্যের দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বাজার দর ও কৃষক প্রাপ্ত বাজার দর সংক্রান্ত তথ্য।

    ২। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে কৃষকদের কে সহায়তা প্রদান।

    ৩। প্রতি দিনের বাজার তথ্য www.dam.gov.bd এই ওয়েবসাইট -এর মাধ্যমে ভোক্তা ও কৃষক ভাইয়েরা জানতে পারবেন।

    ৪। শস্য গুদাম ঋণ দানদান সম্পর্কিত কর্মসূচীর মাধ্যমে কৃষকদের কে ফসল কর্তন পরবর্তী সময়ে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান এবঙ পরবর্তীতে তাদের কে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান।

    ৫। Bangladesh Agribusiness Development Project র্শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করা ছাড়াও সমগ্র বাংলাদেশে ২৮,০০০( আঠাশ হাজার ) মহিলা উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা।

    ৬। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষি পণ্যের বাজার তথ্য গবেষণা, মার্কেট রেগুলেশন, ও বাজার সম্প্রপ্রসারণ কাযর্ক্রম দ্বারা বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা ও ভোক্তা সেবা প্রদানের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ।

  • বিএডিসি -এর কাজ কি?

    ১.বিএডিসি কতৃর্ক আমদানীকৃত সার সঠিক সময়ে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌছানো।

    ২.কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে প্রত্যায়িত ও মান ঘোষিত শ্রেণীর সার বিপনন করে দেশের খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

    ৩.সার ডিলারদের বরাদ্দ অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

    ৪.কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে ৩টি বিক্রয় কেন্দ্রের নিবন্ধন প্রাপ্ত সার ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সার প্রাপ্তি সহজলভ্য করা।

  • কিশোরগঞ্জের উল্লেখযোগ্য নদীসমূহ কি কি ?

    নদীমাতৃক বাংলাদেশ এ কথাটি কিশোরগঞ্জের ক্ষেত্রে যথার্থ। কেননা হাওড় অধ্যুষিত এই জেলার নদ-নদীর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ, মেঘনা, ধনু, ঘোড়াউত্রা, বৌলাই, নরসুন্দা, মগরা, বারম্ননী, চিনাই, সিংগুয়া, সূতী, আড়িয়াল খাঁ, ফুলেশ্বরী, সোয়াইজানী, কালী, কুলা নদী ।কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র, উত্তরে নেত্রকোনা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কংস, মগরা, বাউলাই এবং এদের অসংখ্য শাখা ও সংযুক্ত নদী ও খাল। এই নদীগুলো দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মিলেছে।

    কিশোরগঞ্জের উল্লেখযোগ্য নদীসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ

    ব্রহ্মপুত্রঃ কিশোরগঞ্জের সীমানা বরাবরে হোসেনপুর, পাকুন্দিয়ার টোক হয়ে কটিয়াদী, কুলিয়ারচর ও ভৈরবের প্রামত্ম ছঁয়ে ভৈরব বাজারের নিকট পতিত হয়েছে। এই অংশটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে সমধিক পরিচিত যা মৃত প্রায়। হোসেনপুর থানার সীমানা থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৭ মাইল (প্রায় ৭৫ কি: মি:)।

    মেঘনাঃ প্রায় ১০৪৬ কি: মি: (প্রায় ৬৫০ মাইল) দীর্ঘ মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটি জেলার অষ্টগ্রাম ও কুলিয়ারচর থানার পাশ দিয়ে আরো সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে ভৈরব বাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিশেছে। কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার মেঘনার তীরের বিখ্যাত নদী বন্দর।

    ধনু/ঘোড়াউত্রা/বাউলাইঃ ধনু মেঘনার উপনদী। অপর নাম বাউলাই। এটি সুনামগঞ্জ থেকে সোজা দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী হয়ে কিশোগঞ্জের ইটনা থানায় প্রবেশ করেছে। মিঠামইন এবং নিকলীর নিকট এ নদী ঘোড়াউত্রা নামে পরিচিত। বাজিতপুরের উপর দিয়ে নদীটি কুলিয়ারচরের কাছে মেঘনায় পতিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের সীমানায় এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ মাইল (প্রায় ৫৬ কি: মি:)। বাকময় গতির কারনে এর নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে।

    নরসুন্দাঃ নরসুন্দা নদী হোসেনপুর - পাকুন্দিয়ার সীমানার নিকট ব্রহ্মপুত্রের সাথে সংযুক্ত। অন্যদিকে ইটনা উপজেলার বাদলার নিকট ধনু নদীর সাথে সংযুক্ত। স্থানীয়ভাবে এই সংযোগস্থল ‘‘চৌগাংগা’’ নামে পরিচিত। নরসুন্দাকে ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী হিসাবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হয়ে থাকে। কিশোরগঞ্জে মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কি: মি:)। এক সময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নরসুন্দা এবং অদ্যাবদি তা কিশোরগঞ্জ শহরকে দুভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। একে নিয়ে অনেক গল্প, কাহিনী, কিংবদন্তী, রোমান্টিকতা কিশোরগঞ্জবাসীর মনে এখনো গেঁথে আছে। বর্তমানে মৃত নরসুন্দাকে ঘিরে কিশোরগঞ্জবাসী নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। বর্তমান সরকার নরসুন্দাকে খনন করে মনোরম লেক করার পরিকল্পনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কিশোরগঞ্জ একটি মনোরম শহর হিসাবে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করবে।

    মগরাঃ মগরা নদীর প্রায় ৪০০ বর্গমাইল (৬৪৩ বর্গ কি: মি:) অববাহিকা রয়েছে। কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় প্রবেশের পূর্বে মগরা নদীর সাথে আরো নদীর স্রোতধারার মিলন ঘটেছে এবং সর্বশেষে নেত্রকোনা জেলার মদন থানার প্রামত্ম ছুঁয়ে ইটনার গন্দবপুর গ্রামের নিকট ধনুতে পড়েছে। মগরা নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৯ মাইল (প্রায় ১২৭ কি: মি:)।

    বারম্ননীঃ নেত্রকোনা জেলার সীমানা পেরিয়ে বারম্ননী নদী ইটনা ও তাড়াইল থানার সীমানা বরাবর কিশোরগঞ্জে প্রবেশ করেছে এবং নরসুন্দায় পতিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জ অংশে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ মাইল (প্রায় ৯.৬ কি: মি:)।

    চিনাইঃ নেত্রকোনা জেলা অতিক্রম করে চিনাই নদী ইটনায় প্রবেশ করেছে। মগরা নদীর সাথে মিলিত হয়ে ধনুতে পতিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জ অংশে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ মাইল (প্রায় ৪.৮ কি: মি:)।

    সিংগুয়াঃ সিংগুয়া নদী পাকুন্দিয়ার এগারসিন্দুরের খামাবিল হতে উৎপন্ন হয়ে গচিহাটা ও নিকলী হয়ে ঘোড়াউতরায় মিলিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ মাইল (প্রায় ২২.৪ কি: মি:)।

    সূতীঃ গচিহাটা রেল স্টেশনের ৫ মাইল উত্তর পূর্বে-সিংগুয়া নদী হতে উৎপন্ন হয়ে নকলা ফেরীঘাট অতিক্রম করে সূতী নদী চানপুর হাওরের পূর্ব পাশ দিয়ে রউহা বিল হয়ে ঘোড়াউত্রায় পতিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ মাইল (১১.২ কি: মি:)।

    আড়িয়াল খাঁঃ ব্রহ্মপুত্রের সাথে সংযুক্ত আড়িয়াল খাঁ কটিয়াদী থানার একটি মৃত নদী। কটিয়াদীর কুটির বিল এ নদীর উৎস। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭ মাইল (প্রায় ১১.২ কি: মি:)।

    ফুলেশ্বরীঃ কবি চন্দ্রাবতী-জয়ানন্দের করম্নণ স্মৃতিধন্য ফুলেশ্বরী নদী। ফুলেশ্বরী তাড়াইলের জালিয়া হাওড় হতে বের হয়ে তেউরিয়া ও কাওখালীর পূর্ব দিক দিয়ে ধলা গ্রামের পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে, জাওয়ার ও সেকান্দর নগরের ভিতর দিয়ে পাতুয়াইর গ্রামের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবাহিতহয়ে পশ্চিমে নরসুন্দার সাথে মিলিত হত। এ নদী আজ মৃত।

    ধলেশ্বরীঃ এ নদী মেঘনা নদীর একটি শাখা নদী। অষ্টগ্রামে মেঘনা নদী থেকে এ নদীর উৎপত্তি। অষ্টগ্রামে এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ মাইল।

    সোয়াইজানীঃ এটি ঘোড়াউত্রার শাখা নদী, নিকলী থানার অন্তর্রভূক্ত। নিকলীতে ঘোড়াউত্রা ও নরসুন্দার সাথে এই সোয়াইজানীর মিলন ঘটেছে।

    কালী নদীঃ ঘোড়াউত্রা নদী যেখানে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে সেখান থেকে কালী নদী ভৈরব ও বাজিতপুরের সীমানার মধ্য দিয়ে কুলিয়ারচরে প্রবেশ করেছে। ভৈরবের গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পার হয়ে আরো দক্ষিণে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে শেষ হয়েছে।

    কূলা নদীঃ বাজিতপুরের মাইজচর ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের পূর্ব পার্শ্ব দিয়ে ঘোড়াউত্রা নদী সরাসরি দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। এ অংশটি স্থানীয়ভাবে কূলা নদী নামে পরিচিত। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫ কি: মি:।

    এছাড়াও আরো অসংখ্য ছোট ছোট নদ/নদী জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওড় এলাকা জুড়ে।